
জন্ম ১৯৮৯ সালের জানুয়ারিতে। স্কুল-কলেজের পাট চুকিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। বর্তমান পেশা সাংবাদিকতা। পড়তে ভালোবাসেন, লেখালেখিতে আসক্তি প্রবল। চশমা ছাড়া দুই হাত দূরেও অস্পষ্ট দেখেন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর নতুন দেশ হিসেবে উদ্ভব ঘটে বাংলাদেশের। এর পর শুরু হয় দেশের ভেতরে নতুন শাসক ও শোষক শ্রেণির সৃষ্টিপ্রক্রিয়া। বাংলাদেশে এই কাজ সম্পন্ন হতে বেশি সময় লাগেনি। খুব দ্রুতই নতুন ক্ষমতাবান শ্রেণিটি গড়ে ওঠে এবং বছর যত গড়ায়, এই শ্রেণি পরিপুষ্ট হয়ে উঠতে থাকে।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের এমন লক্ষণ ততটা প্রকট ছিল না। তবে এর পর থেকে দিনকে দিন লক্ষণগুলো প্রকট থেকে প্রকটতর হয়েছে। শেখ হাসিনা নিজেকে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন ক্রমে। তার এমন সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি হয়, যারা নানাভাবে এই কেন্দ্রীভূত ও একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে

গবেষকদের মতে, বর্তমানের শাসকদের কাছে এই অংশগ্রহণমূলক ফ্যাসিবাদ সবচেয়ে আদরনীয় পন্থা। কারণ, এতে সাপও মরে, কিন্তু লাঠিও ভাঙে না। এই ব্যবস্থায় একদিকে সমাজে প্রবল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, অন্যদিকে বিভ্রান্ত জনতাকে বোকাও বানানো যায় এবং ব্যবহারও করা যায়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাতেও ত্রুটি আছে। এর পক্ষে, বিপক্ষে যুক্তি আছে। কিন্তু মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলাই যে একমাত্র সমাধান নয়, সেটি বোঝাতেই হয়তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ফিরে আসা। এই ফিরে আসা সাফল্যমণ্ডিত হবে কি না, তা অবশ্যই ভবিষ্যৎ বলবে।

ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহিংসতা। যে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনই ধরনের দিক থেকে সহিংস। এই আদর্শ অনুযায়ী, কড়া শৃঙ্খলা ছাড়া রাষ্ট্রের পক্ষে ক্ষমতা অর্জন ও তা ধরে রাখা সম্ভব নয়।

গত কয়েক বছর ধরেই এই ফ্যাসিজম নিয়ে এ দেশের রাজনৈতিক মহলে নানা কড়চা শোনা যাচ্ছে। কেউ কাউকে ফ্যাসিস্ট বলে অভিধা দিচ্ছে, তো কাউকে বলা হচ্ছে ফ্যাসিস্টের দোসর। কিন্তু ফ্যাসিজম আসলে কী?

রাজনীতিকে যেভাবে দুর্নীতিপরায়ণ করা হয়েছে এবং এন্তার অনৈতিক ভিত্তি দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেভাবেই এই দেশটার অর্থনীতিও হয়ে উঠেছে লুটপাটতন্ত্রের আখড়া। চুরি বা ডাকাতি বা দুর্নীতিকে নৈতিক ভিত্তি দেওয়া হয়েছে এ দেশে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই এই দেশের সমাজব্যবস্থাটিতেও কেমন যেন দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে

জন্মের পর থেকেই বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আসলে এক দুষ্টচক্রের মধ্যে ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে কেবল। এই ঘুরপাকের শেষের কোনো শুরু আর দেখা যাচ্ছে না আদতে। ফলে এই লেখার শিরোনামে করা প্রশ্নের উত্তর জনসাধারণে খুঁজলে হয়তো একটি উত্তরই মিলবে। সেটি হলো—বিপথে!

গবেষকরা বলছেন, মব জাস্টিস জন্মের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অকার্যকর বিচার বিভাগ। এই বিভাগের ওপর যখন সাধারণ মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে, কোনোভাবেই যখন প্রচলিত ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বাস ফেরাতে পারে না, তখনই মব নিজেরাই জাস্টিস প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করে।

ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিস্ট শব্দ দুটি উচ্চারিত হলেই মূলত দুটি ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। একটি হচ্ছে নাৎসি জার্মানির বা হিটলারের জার্মানির। অন্যটি হচ্ছে বেনিতো মুসোলিনির ইতালি। এই দুটি হলো প্রমাণিত সত্যের মতো ফ্যাসিজমের উদাহরণ।

‘বুদ্ধিজীবীরা যা বলতেন, শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না। এখন যা বলছেন, শুনলে বাংলাদেশের সমাজ–কাঠামোর আমূল পরিবর্তন হবে না।’ প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে সদ্য জন্ম নেওয়া একটি দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক বিন্যাস নিয়ে লিখতে বসে শুরুতেই এমন মন্তব্য করেছিলেন আহমদ ছফা

রাজধানী শহর ঢাকার রাস্তায় সব যানই যেন রাজা বনে যায়। চলে যে যার ইচ্ছেমতো। এ সমস্যা কি সমাধানের অযোগ্য? না, কখনোই নয়। সমাধান করার সৎ চেষ্টা থাকলে, এই পৃথিবীতে সব সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব। এর জন্য প্রকৃত ইচ্ছা থাকতে হবে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার দেখতে সাধারণ কম্পিউটারের মতো নয়। অনেক ধাতব সিলিন্ডার ও প্যাঁচানো তারে তৈরি কিম্ভূতকিমাকার এই যন্ত্রটি। কোয়ান্টাম মেকানিকসের জটিল সমীকরণ কাজে লাগিয়ে গাণিতিক সব সমস্যার সমাধান করবে এটি।

জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার তৈরির স্বপ্নই এতদিন সবাই দেখেছে, কেউ বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। বলা হয়েছে, এই সুপারকম্পিউটার কাজ করবে জেটাফ্লপস গতিতে। পুরোপুরি কর্মক্ষম হলে এই সুপারকম্পিউটার আজকের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপারকম্পিউটারের চেয়েও ১০০০ গুণ বেশি গতিতে কাজ করতে পারবে।

মানবসভ্যতার শুরুটা হয়েছিল মানুষের গোষ্ঠীবদ্ধতার মধ্য দিয়ে। গোষ্ঠী গঠন হওয়ার পরই আসে তার নেতৃত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ। এই প্রক্রিয়াতেই ধীরে রাজ্য বা সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন হয়। রাজা বা সম্রাটের শাসনকাল শুরু হয়। অতিসরলীকরণ মনে হলেও বংশানুক্রমিক শাসনের ইতিহাস এ রকমই। এরপর ধীরে ধীরে আসে গণতন্ত্রের ধারণা।

গণপিটুনি আসলে কেমন ক্রিয়া? সাধারণত অনেক মানুষ জোটবদ্ধ হয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে একই উদ্দেশে পেটায় এই প্রক্রিয়ায়। অর্থাৎ, এই পিটুনি এক ধরনের শাস্তি প্রদান প্রক্রিয়া। প্রচলিত কোনো আইনের তোয়াক্কা না করেই, সমাজের মানুষ গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে এমন শাস্তি প্রদান করে থাকে।

যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে মধ্যবিত্তের উত্থানকে বিবেচনা করা হয়। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সমাজতাত্ত্বিকদের মত হচ্ছে, একটি দেশে যখন মধ্যবিত্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন সে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্ত ভিত্তি পায়।